Sunday, February 1, 2026

ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত অন্তত ১৭০

আরও পড়ুন

বহুল সমালোচিত নির্বাচনের সময় প্রায় দুই মাসে চালানো সামরিক বিমান হামলায় মিয়ানমারে অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতিসংঘ জানায়, “বিশ্বস্ত সূত্র” যাচাই করে দেখা গেছে- ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ভোটগ্রহণকালীন সময়ে অন্তত ৪০৮টি সামরিক বিমান হামলায় এসব বেসামরিক প্রাণহানি ঘটে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মিয়ানমার বিষয়ক দলের প্রধান জেমস রোডহেভার জেনেভায় সাংবাদিকদের জানান, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক তথ্য সংগ্রহে দেরি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ  নির্বাচনে হেরেও প্রশংসায় ভাসছেন ছাত্রদল নেতা হামিম,জানা গেল কারণ

এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন মিয়ানমারের সামরিক সরকারের আয়োজিত নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা চলছে। গণতন্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো এই নির্বাচনকে সামরিক শাসনের নতুন মোড়ক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের জনগণের ওপর যে ব্যাপক হতাশা ও নিপীড়ন নেমে এসেছে, সাম্প্রতিক নির্বাচন তা আরও গভীর করেছে। তিনি বলেন, ভয়ভীতির মধ্যেই অনেক মানুষ ভোট দিতে বা ভোট না দিতে বাধ্য হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের পরিপন্থী।

আরও পড়ুনঃ  আবারও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নতুন বার্তা দিলেন: প্রধান উপদেষ্টা

জাতিসংঘ আরও জানায়, ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে মাত্র ২৬৩টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাও মূলত সেনা নিয়ন্ত্রিত শহরাঞ্চলে। সংঘাতপ্রবণ এলাকা, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী এবং রোহিঙ্গাসহ সংখ্যালঘুদের বড় একটি অংশ এই নির্বাচন থেকে বাদ পড়েছে।

ভলকার টুর্ক বলেন, গত পাঁচ বছরে মিয়ানমারে সামরিক শাসন রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গণগ্রেপ্তার, জোরপূর্বক সেনা নিয়োগ, নজরদারি এবং নাগরিক পরিসর সংকুচিত করার মাধ্যমে চিহ্নিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “ভোটের মাধ্যমে জনগণকে বাধ্য করে সহিংসতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী- এটি কোনোভাবেই বেসামরিক শাসনের প্রতিফলন নয়।”

আপনার মতামত লিখুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ